আখেরি মোনাজাত: ফিরতি মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়

আখেরি মোনাজাত: ফিরতি মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়
আখেরি মোনাজাত: ফিরতি মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়

সকাল নারায়ণগঞ্জ অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। এ সুযোগে বিভিন্ন যানবাহন বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে। অপর দিকে কাক্সিক্ষত যানবাহন না পেয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে অনেকেই পৌঁছেছেন গন্তব্যে।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের পরপরই মানুষের ঢল নামে টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের সড়কে। ঢাকার বাইরে থেকে যারা এসেছেন, তাদের বেশির ভাগই যানবাহন ভাড়া করে এসেছেন।

তাদের চেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসল্লিদের। ট্রেনের ছাদে ওঠার জায়গাও ছিল না। বাস না পেয়ে অনেককেই ট্রাক-পিকআপে রওয়ানা হতে দেখা গেছে।

যারা যানবাহনে উঠতে পেরেছেন তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। উত্তরা থেকে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসে করে বাড্ডায় আসেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, এ পথের ভাড়া ২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এটা একেবারে মাত্রা ছাড়া নৈরাজ্য।

বিকাশ পরিবহন উত্তরা থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত হাঁক ডেকে ১০০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী তুলেছে। বিভিন্ন পরিবহনের উত্তরা থেকে রামপুরা, গুলিস্তানের ভাড়াও ১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। আর বনানী মহাখালীর ভাড়া আদায় করা হয়েছে ৫০ টাকা।

কুড়িলে এক মুসল্লি জানান, দূরত্ব যাই হোক, যত কমই হোক- বাসগুলো ১০০ টাকা করে নিচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা ১০০ টাকার ভাড়া ৪০০-৫০০, ২০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ১২ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা দিয়ে এসেছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরার আজমপুর থেকে মতিঝিল, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, সদরঘাট, আজিমপুর, নিউমার্কেট ও গাবতলীর পথে বিভিন্ন বাসে ১০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বেলা ৩টার দিকে কথা হয় আলী রাজের সঙ্গে।

তিনি যাবেন রামপুরায়। তিনি বলেন, আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরার পথে ভিড়ের কারণে গাড়িতে উঠতে পারিনি। তাই হেঁটে এ পর্যন্ত এসেছি। তার সঙ্গে আসা আরেকজন কামরুজ্জামান বলেন, ভিড়ের মধ্যে গাড়িতে উঠলেও ভাড়া রাখছে কয়েক গুণ বেশি।

এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। গণপরিবহনগুলোর বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মুসল্লি ও সাধারণ যাত্রীরা।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহনে আজমপুর থেকে ফার্মগেট আসেন আফজাল হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এই দূরত্বে ২৫ টাকার বেশি ভাড়া হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু আমার কাছ থেকে রাখল ৭০ টাকা। এসব বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, এ বছর কোনো ধরনের যানবাহন সঙ্কট হয়নি। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ভাড়ার বিষয়টি মালিক-শ্রমিকদের ব্যাপার। এর পরও বাড়তি ভাড়া যাতে আদায় না হয়, সেজন্য আমরা একটি টিম প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু এত মানুষের ঢল। সেখানে কে কার কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।